দু মিনিট সময় লাগবে পড়তে, কিন্তু গল্পটি মিস করবেন না…

0
38371

সাইকোলজির ক্লাস রুম। কেউ পড়াশোনার মেজাজে নেই। কারণ দিনটা ছিল বৃষ্টির। বেশ গল্পগুজব করার মতো একটা পরিবেশ চারপাশে। দেখলেন কারুর পড়ায় মন নেই, তাই তিনিও জানালেন আজ শুধুই গল্পই হবে তাহলে। শিক্ষক গিয়ে বসলেন ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে একটা বেঞ্চে এবং খুব আন্তরিকতার সাথেই পাশের মেয়েটির থেকে জানতে চাইলেন সে বিবাহিতা কিনা।

মেয়েটা একটু লজ্জা পেল প্রথমে তারপর বলল :- “হ্যাঁ স্যার। আমার একটা দুই বছরের ছেলেও আছে।” শিক্ষক খুব হাসি হাসি মুখ নিয়ে বললেন :- “আমরা আজ একটা খেলা খেলবো”। ক্লাসে সবাই হাততালি দিয়ে উঠলো। এই কথা বলে শিক্ষক মেয়েটিকে চক-ডাস্টার দিলেন ও বোর্ডে যেতে নিরদেশ দিলেন।

তারপর বললেন, “তোমার প্রিয় দশ জন মানুষের নাম লেখো বোর্ডে।” মেয়েটা গিয়ে বোর্ডে দশ জন প্রিয় মানুষের নাম লিখলো। শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন:- “এরা কারা ? তাদের পরিচয় ডান পাশে লেখো।” মেয়েটা তাদের পরিচয় লিখলো।

তার পরিবার, দু-একজন বন্ধু, প্রতিবেশীর নামও সেই লিস্টে ছিল। মেয়েটি ক্লাসের সবার সাথে তার প্রিয় জনেদের পরিচয় করিয়ে দিল। এবার শিক্ষক বললেন :- “লিস্ট থেকে পাঁচ জনের নাম মুছে দাও।” মেয়েটা তার প্রতিবেশী আর বন্ধুদের নাম মুছে দিলো একটু ভেবে।

শিক্ষক একটু মুচকি হেসে আরো তিন জনের নাম মুছতে বললেন। মেয়েটা এবার একটু ভাবনায় পড়লো। ক্লাসের অন্যরাও এবার সিরিয়াসলি নিলো বিষয়টাকে। সবাই বুঝল এটা কোনও খেলা নয়। সাইকলজির একটা টাস্ক। সবাই দেখলো মেয়েটা রীতিমত ইমোশনাল হয়ে পরেছে, সে ধীরে ধীরে তার বেস্ট ফ্রেণ্ডের নাম মুছলো। বাবা আর মায়ের নাম মুছতেও তার বেশ কষ্ট হল।

এখন মেয়েটা রীতিমতো কাঁদছে। সবাই ভেবেছিল ক্লাসে আজ আনন্দের পরিবেশ থাকবে। কিন্তু ক্লাসের আবহাওয়া এখন অন্য। ক্লাসের অন্যদের মধ্যেও টান টান উত্তেজনা। লিষ্টে আর বাকি আছে দুজন। মেয়েটার স্বামী আর সন্তান। শিক্ষক এবার মোক্ষম টাস্কটি দিলেন। বললেন “আর একজনের নাম মোছো।” কিন্তু মেয়েটা ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো।

কারোর নাম সে মুছতে পারছে না, শিক্ষক নরম শ্বরে বললেন এটা একটা খেলা। সাইকোলজির খেলা। তুমি শুধু নাম মুছে দিয়েছ। কাউকে পৃথিবী থেকে মুছে দাওনি। মেয়েটা কাঁপা কাঁপা হাত নিয়ে তার সন্তানের নাম মুছে দিলো। শিক্ষক এবার মেয়েটার কাছে গেলেন, পকেট থেকে একটা উপহারের বাক্স বের করে বললেন :-

“খেলার নামে তোমার মনে যদি কোন আঘাত লেগে থাকে তার জন্যে আমি দুঃখিত। আর এই গিফ্ট বক্সে দশটা গিফ্ট আছে। তোমার সব প্রিয়জনদের জন্য।” তারপর তিনি জানতে চাইলেন মেয়েটির অন্য নামগুলি মোছার কারণ। মেয়েটা বললো :- “প্রথমে বন্ধু আর প্রতিবেশীদের নাম মুছে দিলাম কারণ, আমার কাছে বেস্ট ফ্রেণ্ড আর পরিবারের সবাই বেসি প্রিয়।

পরে যখন আরও তিনজনের নাম মুছতে বললেন, তখন বেস্ট ফ্রেণ্ড আর বাবা মায়ের নাম মুছে দিলাম ভাবলাম বাবা মাকে তো একদিন না একদিন হারাতেই হবে আর বেস্ট ফ্রেণ্ড না থাকলে কি হয়েছে ? কিন্তু সবার শেষে যখন এই দুজনের মধ্যে একজনকে মুছতে বললেন তখন আর সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না।

তারপর ভাবলাম ছেলে তো বড় হয়ে একদিন আমাকে স্বেচ্ছায় ছেড়ে চলে গেলেও যেতে পারে। কিন্তু ছেলের বাবা তো কোন দিনও আমাকে ছেড়ে যাবে না।”…. তাই নিজের জীবনসঙ্গীকে প্রাণ ভরে ভালোবাসুন। কারণ, তিনিই আপনার সবচেয়ে বড় বন্ধু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here