সমুদ্রের নীচেই থাকে দেবাদিদেবের এই মন্দির, কিন্তু ঠিক দুপুর ১টা বাজলেই ভেসে ওঠে আরব সাগরে…

1
19418

ধর্ম বিশ্বাস হল এক শক্তি, কেউ কেউ এর নাম কুসংস্কারও দিয়ে থাকেন। কিন্তু একথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে পৃথিবীতে এমন অনেক কিছু আছে যা বিজ্ঞান দিয়ে বিশ্লেষণ করা যায় না। মানুষ পৃথিবীতে এসেছে অনেক পরে, তার বহু যুগ আগে এই বিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। এই মহা বিশ্বে এত কাণ্ড যা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে তার হিসেব কি কেউ দিতে পারে ?

পৌরাণিক গল্প গাথা থেকে শুরু করে আশ্চর্য সব কাহিনী আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে। আমরা কেউ সেগুলি বিশ্বাস করি, কেউ বা হেসে উড়িয়ে দি। তবে এমন অনেক উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে আসে যা ব্যাখ্যা করতে গেলে সব সময় সাফল্য পাওয়া যায় না।

ভারতবর্ষের বুকে ঠাকুর দেবতা নিয়ে বহু গল্প প্রচলিত। সেগুলি যে কেবলই গল্প নয় তার উদাহরণ কিন্তু চোখের সামনে উজ্জ্বল। উদাহরণ স্বরুপ আমরা বলতে পারি গুজরাত থেকে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে আরব সাগরের মধ্যে অবস্থিত নিশকলঙ্গেশ্বর শিব মন্দির যা ভক্তদের কাছে অন্যতম পুন্যস্থান।

শোনা যায় মহেশ্বর নাকি এখান থেকে খালি হাতে কাউকে ফেরত পাঠান না। মনস্কামনা পূর্ণ হবেই যদি এই মন্দিরে গিয়ে শিবের দর্শন করতে পারেন। তবে এত সহজে কিন্তু শিব দর্শন দেন না। মনস্কামনা পুরণ করার পথটি এত সহজ নয়।

মাঝ সমুদ্রে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরের প্রবেশ পথ সব সময় খোলা রাখেন না প্রকৃতি দেবী। শিবের দর্শন করতে হলে দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে যেতে হয়। বাকি সময় যদি যান তবে দেবাদিদেবের দর্শন সম্ভব নয়। সেসময় সমুদ্রের জল আগলে দাড়ায় মন্দিরের পথ। রাস্তাটি থাকে সম্পূর্ণ ভাবে জলের তলায়।

ঈশ্বরের কি অপার লীলা, যে আশ্চর্য কোন এক কারণে তিনি মানুষের জন্য দ্বার খুলে দেন ঠিক দুপুর ১ টা থেকে রাত ১০ টা। বাকি সময়টায় মন্দির ও সাথে প্রবেশের রাস্তা সবটাই চলে যায় সমুদ্রের নীচে। দুপুর ১ টা থেকে কমতে থাকে সাগরের জল। তখন মানুষ পায়ে হেঁটে ঢুকতে পারে মন্দিরের ভিতর।

মন্দিরটি ২০ ফুট লম্বা! এত উঁচু মন্দির পুরটাই জলের নীচে চলে যায়। তবে আশ্চর্য বিষয় তার ধ্বজাটি কিন্তু থাকে জলের ওপরেই। ১২ মাসের একদিনও এই নিয়মের হেরফের হয় না। জোয়ার ভাটার বিষয়টি এখানে অবশ্যই একটি কারণ তবে তা দিয়ে এই পুরো ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here