ছোট্ট ফুটফুটে মেয়েকে নিয়ে কবরে শুতে যায় বাবা, কারণটা জানলে চোখে জল চলে আসবে…

0
3985

আধুনিক মনোবিজ্ঞান বলে যে, বাবা-মেয়ের সম্পর্কের বিশেষ প্রভাব দুজনের জীবনের ওপরই সমানভাবে রয়েছে। মেয়েরা তার বাবার থেকেই শেখে যে কেমন ধরণের পুরুষের সাথে নিজেকে বন্ধনে আবদ্ধ করা উচিত। আর বাবারা তার কন্যার থেকেই ধৈর্যশীল, অমায়িক এবং স্নেহময় হতে শেখে। যেকোনো বাবার কাছে তার মেয়ে সবসময়ই খুব প্রিয় আর আদরের হয়। তারা নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে তাকে আগলে রাখার চেষ্টা করে।

পরিবর্তে সব মেয়ের কাছেই বাবা ভগবানের মত হয়। যদি কেউ কোন মেয়েকে জিজ্ঞেস করে যে তার কেমন পাত্র পছন্দ ? উত্তরে বেশিরভাগ মেয়ের কাছ থেকে যেটি শোনা যায় তা হল ‘বাবার মতো’। জন্মের পর মেয়েরা প্রথম পুরুষের সান্নিধ্য পায় বাবার থেকে। তারপর বেড়ে ওঠার সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে বাবার।

কিন্তু এমন যদি শোনেন, মেয়েকে নিয়ে দিনের পর দিন কবরে সময় কাটাচ্ছেন যাতে তার মৃত্যুর পর একাকীত্ব বোধ না হয় কারণ মেয়ে খুব শীঘ্রই মারা যাবে। এক সত্য ঘটনা, তাহলে জেনে নেওয়া যাক আসলে কি হয়েছে।

নাম – ঝাং জিনলে, বয়স তার দুই বছর। একদম অল্প বয়সে তার ধরা পড়েছে দুরারোগ্য থ্যালাসেমিয়া। বার বার রক্ত পরিবর্তন করাতে হয় তার। বেঁচে থাকারও নিশ্চয়তা কম। চিকিৎসকরাও জানিয়ে দিয়েছেন যে তার মেয়ে বেশিদিন বাঁচবে না। তার মৃত্যু হতে পারে যে কোন সময়। প্রকৃতির ডাকে তাকে যেকোনো সময় বিদায় দিতে হবে।

মৃত্যুর পর মেয়ে যেন একাকিত্ববোধ না করে তাই আগেই মেয়েকে নিয়ে কবরে সময় কাটাচ্ছেন তার বাবা। এই ঘটনাটি সারা বিশ্বকে কাঁদিয়ে তুলেছে। এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোড়ন তুলেছে। বংশগত কারণে থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নিয়েছে দুই বছর বয়সী জিনলে। এই রোগে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নষ্ট হয়ে যায়, তাই নিয়মিত রক্ত ও ওষুধ দিতে হয় তাকে।

মেয়ের বাবা ঝাং লিওং তার চিকিৎসার জন্য নিজের সব অর্থ খরচ করে ফেলেছেন। ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে ঝাং কবরে জিনলেকে নিয়ে শুয়ে আছেন। কাছেই তার গর্ভবতী স্ত্রী ডেং মিন বসে আছেন। জিনলেয়ের চিকিৎসায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ইউয়ান খরচ করেছে ঝাং। চারিদিকে বহু অর্থ ঋণ হয়ে গেছে তার।

ঝাং প্রতিদিন তার মেয়েকে সেই কবরে খেলতে নিয়ে যায়, যেখানে সে চিরনিদ্রায় শায়িত হবে। এই বিষয়ে চীনের ক্রাউডফান্ডিং সাইট শুইডিচো ডট কম তার চিকিৎসার জন্য ২ লাখ ইউয়ান দিয়েছে।

আবার এমন অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন। একজন বলেছেন, এটা আমার কাছে প্রহসনের মত মনে হয়েছে। শিশুটি নির্দোষ, এমনভাবে তাকে কবরে নিয়ে যাওয়া ঠিক না। এই ছবিগুলি ইন্টারনেটের অনেক দর্শকদের মানসিক ক্ষতি করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here