এলেন দেখলেন জয় করলেন – রাজপাল যাদবের সুন্দরীতে মুগ্ধ গোটা পশ্চিমবঙ্গ

0
1823

রাজপাল যাদব  – ছোটোখাটো চেহারার মানুষটিকে  আমরা চিরকাল দেখেছি দমফাটা হাসির চরিত্রে অভিনয় করতে। সেই মানুষটি এক অন্য রূপে ধরা দিলেন বাংলা ছবি সুন্দরীতে। সম্পূর্ণ নতুন রূপে রাজপাল কে পেয়ে মুগ্ধ গোটা পশ্চিমবঙ্গ। আলোড়ন ফেলে দিয়েছে ছবিটি গ্রাম বাংলা থেকে শহর – সব মানুষের মনে।

সাধারণ মানুষের খুব ছোট ছোট কিছু স্বপ্ন থাকে। সেই স্বপ্নের মধ্যে একটা সুন্দর বাড়ী, গাড়ি আর সুন্দরী বউ, এইরকমই হয় তার চাহিদা। অন্তত বেশীরভাগ বাঙ্গালির স্বপ্ন একইরকম। সাধারনত মানুষ যেটা পায় না সেসবের স্বপ্নই দেখে সে।অপূর্ব হালদারের প্রযোজনায় এই স্বপ্নগুলোই নিয়ে এসেছেন রাজ মুখার্জী তার নতুন সিনেমায়। সিনেমার নায়ক যখন চারপাশের সাদামাটা মানুষের মত স্বপ্ন দেখে সুন্দরী মেয়ে ছাড়া সে বিয়ে করবে না কিছুতেই তখন নায়কের সাথে দর্শকেরাও যেন কোথাও না কোথাও মিলিয়ে ফেলেন নিজেকে।  সুন্দরী মেয়ের সাথে প্রেম করতে হবে এইটাই সিনেমার নায়ক সাগরের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সাগরের এই সুন্দরীর সন্ধানে তাকে সবরকম ভাবে সাহায্য করে একমাত্র ভালো বন্ধু দীপক। কিন্তু সাথে সে বন্ধুকে এটাও জানাতে ভোলে না যে বাস্তব বড় অন্যরকম। সাগর গরীর,কিন্তু শুধুমাত্র গরীব হওয়ার জন্য সে হারিয়ে ফেলতে চায় না নতুন খুঁজে পাওয়া ভালবাসা তিস্তাকে। তাই মিথ্যে স্বর্গ তৈরি করে সে তিস্তার জন্য। ভুলে যায় জীবনে তার বড় অভাব। বড়লোকের মত থাকতে শুরু করলেই যে বড়লোক হয়ে ওঠা যায় না সেটা বুঝতে পেরে বাস্তবের কড়া মাটিতে আছড়ে পড়ে সে।

একদিকে প্রচুর ধার, বড়লোক হওয়ার অভিনয় অন্যদিকে তিস্তার প্রেম। কোনদিকে যাবে সাগর? বাকীটা জানার জন্য অবশ্যই আপনাকে দেখতে হবে সুন্দরী। শুধু অভিনয় দেখার জন্যই আপনি দেখতে পারেন এই সিনেমা।নায়কের চরিত্র ‘সাগর’ যেন তৈরি হয়েছিল রাজপাল যাদবের জন্যই।বাংলায় এটাই তার প্রথম কাজ হলেও  তিনি তা বুঝতে দেননি একবারের জন্যও। কমেডি চরিত্রে তাকে দেখে অভ্যস্ত লোকজন সিরিয়াস এক রাজপালকে দেখবেন এবার। অভিনেতা রাজপাল যে কতটা শক্তিশালী তা তিনি বুঝিয়েছেন এই সিনেমাতে। ‘সাগর’ যে সুন্দরীকে নিয়ে পাগল সেই তিস্তার ভুমিকায় আছেন রিমঝিম দাস। তার অভিনয় যথাযথ। সমস্ত আবেগের দৃশ্যে তিনি সুন্দর অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। সুন্দরী শুধুমাত্র প্রেম খোঁজার গল্প নয়। এক সুন্দর বন্ধুত্বের ও গল্প। সেই বন্ধুত্বের জায়গাটা যিনি নিজের অসামান্য অভিনয়গুনে ধরে রেখেছেন তিনি হলেন বিশ্বনাথ বসু। হাসিতে এবং আবেগে তিনি অনায়াসে মিশে গেছেন সিনেমার সাথে। অনেকেই নিজের চারপাশের কিছু নিঃস্বার্থ বন্ধুর ছবি দেখতে পাবেন তার মধ্যে। রাজপালের মালিক বা বসের ভুমিকায় প্রিয়াংশু চট্টোপাধ্যায় সুন্দর। অল্প সময়ের জন্য হলেও মামার ভূমিকায় পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অসাধারণ। টাকা ছাড়া একটা মানুষের জীবনে যে আর কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে না তা এই চরিত্রকে দেখলে অনায়াসে বোঝা যায়। সব মিলিয়ে ‘সুন্দরী’ দর্শক মনে এক সুন্দর অনুভূতির জন্ম দেয় যা সিনেমাহল ছেড়ে বেরিয়ে আসার পরও থেকে যায় অনেকক্ষণ।

 

 

 

 

 

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here