মেয়েটি স্কুল থেকে ভ্রমনে গিয়ে খুজে পায় তার হারানো ঠাকুমাকে…

0
9174

কিছুদিন আগে একটি মেয়ে তার স্কুলের সঙ্গে শিক্ষামূলক ভ্রমনে গিয়েছিলো একটি বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে গিয়ে সে খুঁজে পায় তার ঠাকুমাকে। মেয়েটির নাম হল দিতি। তার ঠাকুমাকে সেখানে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটি। সে ছোট বেলা থেকেই তার ঠাকুমাকে একটি ছবিতে দেখেছিল তাদের বাড়ির দেওয়ালে পেরেক দিয়ে টাঙানো অবস্থায়। সেই ছবি দেখেই সে চিনতে পারে ঠাকুমাকে।

ছোটবেলা থেকেই দিতির তার ঠাকুমার ওপর একটা অন্য রকমের টান ছিল। ছবি দেখে সে বার বার তার মা বাবাকে প্রশ্ন করতো যে তার ঠাকুমা কোথায় আছে। উত্তরে তার বাবা মা তাকে জানাতো যে তার ঠাকুমা অন্য বাড়িতে তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে থাকে।

মেয়েটি অনেক বায়না করেছিল তার ঠাকুমাকে দেখতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু তারা কখনই নিয়ে যায়নি। বাচ্চা মেয়েটি যখন তার বন্ধুদের মুখে তাদের ঠাকুমা অথবা দিদার গল্প শুনত তখন তারও ইচ্ছা হত তার ঠাকুমার কাছে যাওয়ার। কিন্তু তার ইচ্ছা কোনদিনই পূরন হতনা।

স্কুল থেকে বেড়াতে গিয়ে যখন দিতি দেখতে পেল বারান্দায় একটি ঘোলাটে চশমা পড়া এক বৃদ্ধাকে যাকে অবিকল তার বাড়িতে থাকা ছবির মত দেখতে। তখন তার ভুল হয়নি তার ঠাকুমাকে চিনতে। সঙ্গে সঙ্গে সে যায় এবং জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।

ঠাকুমা দিতিকে কোনদিনও দেখেনি, তাই প্রথমে তাকে চিনতে না পারায় একটু অবাক হয়েছিল। তারপর মেয়েটি নিজের পরিচয় দেওয়ায় তার ঠাকুমাও তাকে বুকে টেনে নেয়। তারপর সেই বৃদ্ধা তার নাতনিকে জানায় আসল ঘটনা।

আসল ঘটনা হল বৃদ্ধা স্থান পায়নি তার ছেলের বহু মূল্যের শৌখিন ফ্ল্যাটে। আর তার বৌমাও তাকে সহ্য করতে পারতনা। তাই সেই বৃদ্ধার স্থান হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। দেখা হওয়ার পর সেই বৃদ্ধা দুঃখ প্রকাশ করে তার নাতনির কাছে।

তিনি বলেন যে তিনি এখন বুড়ি হয়ে গেছেন তাই আর তাকে ওই সুন্দর ফ্ল্যাটে মানায় না। একসময় সেই বৃদ্ধা তাদের ছেলেকে আদর যত্নের সঙ্গে বড় করে তুলেছিল, নিজেরা না খেয়ে তাকে খাইয়েছে। পড়াশোনা শিখিয়েছে। মানুষের মত মানুষ করার জন্য তারা অনেক কষ্ট করেছে। গায়ে একটুও আঁচড় লাগতে দেয়নি।

ছেলে বড় তো হয়েছে কিন্তু মানুষ হয়তো হয়নি। চাকরি করে অনেক টাকা রোজকার করলেই মানুষ হওয়া যায়না। মানুষ হতে গেলে যেটা দরকার সেটা হল মনুষ্যত্ব। বৃদ্ধা মাকে বয়সকালে বৃদ্ধাশ্রমে রাখা কখনোই মানুষের পরিচয় নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here