মহাপ্রলয়কালে ইনি বিষাণ ও ডমরু বাজিয়ে ধ্বংসের সূচনা করেন। জানুন মহাদেবের কিছু অজানা কাহিনী।

0
2297

শিব যেমন শান্ত, তেমনই রেগে গেলে শিবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পান না কেউই। জেনে নিন কোন পাপগুলি ভগবান শিব কখনই ক্ষমা করেন না –

১) যে পুরুষ বা নারী কোনও বিবাহিত নারী বা পুরুষের সঙ্গে প্রেমালাপ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, বা পরকীয়ায় জড়ান তাদের শিব কখনই ক্ষমা করেন না। ২) অন্যের সম্পত্তির উপর লোভ দেওয়া বা সেই সম্পত্তি আদায় করা মহাদেবের চোখে বিশাল পাপ।

৩) নিরীহদের থেকে চালাকি করে টাকা পয়সা আদায় করা, তাদের ঠকানোকে শিব ক্ষমার যোগ্য বলে মনে করেন না। ৪) ভালো কাজ ছেড়ে যারা বিপথগামী হয় তারা হাজার চেয়েও শিবের ক্ষমা পান না। ৫) অন্তঃসত্ত্বা নারীর উদ্দেশ্যে খারাপ মন্তব্য করা।

৬) উদ্দেশ্যপ্রণদিতভাবে কারোর নামে মিত্যাচার করে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করা। ৭) কারোর সামনে ভালো সেজে, তাঁর পিছনে নিন্দা করা। ৮) যেকোনো প্রাণীর উপর নৃশংসভাবে অত্যাচার করা।

৯) গাছপালা কেটে ফেলা। ১০) অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা। ১১) গুরুজনদের অপমান করা। ১২) বৃদ্ধদের মারধর করা।

হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী মতে-তিন প্রধান দেবতার (ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বা মহাদেব) অন্যতম তিনি। ইনি স্বয়ম্ভূ। ইনি ধ্বংসের অধিকর্তা। এঁর প্রধান অস্ত্র ত্রিশূল। ধনুকের নাম পিনাক।

ইনি বিশ্ব ধ্বংসকারী পাশুপাত অস্ত্রের অধিকারী। মহাপ্রলয়কালে ইনি বিষাণ ও ডমরু বাজিয়ে ধ্বংসের সূচনা করেন। ইনি মহাযোগী, সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী, নির্গুণ ধ্যানের প্রতীক। ইনি রক্তমাখা বাঘছাল নিম্নাঙ্গে ধারণ করেন, কিন্তু উর্ধ্বাঙ্গ নগ্ন। তবে কখনো কখনো কৃষ্ণসার হরিণের চামড়া উত্তরীয় হিসাবে উর্ধ্বাঙ্গে পরিধান করেন। এঁর শরীর ভস্ম দ্বারা আবৃত। মাথায় বিশাল জটা। কপালের নিম্নাংশে তৃতীয় নেত্র, উধ্বাংশে অর্ধচন্দ্র ও কণ্ঠে সাপ ও কঙ্কাল মালা।

ইনি কঠোর তপস্যার দ্বারা অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়েছিলেন। হিমালয়ের কৈলাসে ইনি সিদ্ধ, চারণ, কিন্নর, যক্ষ, রাক্ষস, অপ্সরা, গন্ধর্ব এবং প্রমথগণ পরিবেষ্ঠিত অবস্থায় বাস করেন। কুবের এঁর সম্পদ রক্ষা করেন। এঁর স্ত্রী সতী [দুর্গা] । গঙ্গাও তাঁর স্ত্রী ছিলেন বলে অন্যত্র জানা যায়। তাঁর দুই পুত্রের নাম কার্তিক, গণেশ এবং দুই কন্যার নাম লক্ষ্মী ও সরস্বতী। এঁর বাহন বৃষ ও সহচর নন্দী ও ভৃঙ্গী। অসীম রহস্য নিয়ে রয়েছেন শিব। তার মধ্যে সাতটি রহস্য হলোঃ

১) সাপ : সর্প হচ্ছে সদা জাগ্রত থাকার প্রতীক। যদি আপনার গলায় একটি সাপ প্যাঁচানো থাকে, তাহলে আপনি কিছুতেই ঘুমাতে পারবেন না।

২) ভষ্ম : এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে।

৩) চন্দ্র : চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।

৪) ডমরু : এটা দেখতে ইনফিনিটি চিহ্নের মত। যা শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।

৫) ত্রিশুল : শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন, এটি তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন।

৬) নীলাভ শরীর : আকাশ অন্তহীন, শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতা তথা অসীমতার প্রতীক।

৭) গঙ্গা : গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে। যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়, তখনই তাতে নিষ্কলুষ জ্ঞান প্রবাহিত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here