হাসপাতালে স্যালাইনের স্ট্যান্ড না থাকায় বাবাকে বাঁচাতে বোতল হাতে ধরে রইল ছোট্ট মেয়েটি…

0
2362

আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতাল গুলোতে স্বাস্থ্য দপ্তর গুলির যা অবস্থা তা সকলেরই জানা। কেউ যদি সাংঘাতিক অসুস্থ হয়ে পড়ে, আর যদি প্রাইভেট নার্সিং হোমে ভর্তি করার মত টাকা না থাকে তাহলে তাকে বেঘোরে প্রান হারাতে হয়। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার হাল খুবই খারাপ। শুধু আমাদের দেশে বলে নয় অনেক জায়গাতেই এই অবস্থা।

সেরকমই একটি দৃষ্টান্ত দেখা গেল মহারাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে। প্রায় সব দম্পতিরাই কামনা করে পুত্র সন্তানের জন্য। কিন্তু ছেলেদের থেকে মেয়েরাই বেশি ভালোবাসে তার বাবা-মাকে। তা আবার প্রমান করে দিল এক ছোট্ট মেয়ে।

বেশ কিছুদিন আগে ঘটনাটি ঘটেছে মারাঠাবারার সব থেকে বড় হাসপাতালে। এটি প্রায় ১২০০ বেডের একটি সরকারি হাসপাতাল। সেখানে ঔরঙ্গবাদ থেকে শুরু করে আশেপাশের ৮টি জেলার মানুষের চিকিৎসা হয়। প্রায় সারা বছরই এই হাসপাতালে রুগীদের প্রচণ্ড ভির লেগে থাকে।

সেই হাসপাতালেই তোলা একটি ছবিতে দেখা যায় একটি ছোট্ট মেয়ে স্যালাইনের বোতল হাতে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। জানা যায় ঐ ছবির মেয়েটি তার অসুস্থ বাবার সঙ্গে হাসপাতালে ছিল। তার বাবার স্যালাইন চলছিল। এক ডাক্তার তার বাবাকে দেখার পর তাকে স্যালাইন দিয়ে স্যালাইন স্ট্যান্ড খুজে পায়না।

তখন মেয়েটিকে বলা হয় স্যালাইনের বোতলটি হাতে করে ঝুলিয়ে রাখতে। এই বলে তার হাতে বোতলটি ধরিয়ে দিয়ে ডাক্তার চলে যায় স্যালাইন স্ট্যান্ড আনতে। কিন্তু যাওয়ার পর আর ফিরে আসেনা সেই ডাক্তার। বাচ্ছাটি ২ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে হাতে স্যালাইনের বোতল হাতে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।

বাবা ও মেয়ের এই ছবি সবাইকে অবাক করে দেওয়ার মত। ঔরঙ্গবাদের একনাথ গাবলি নামে এক অসুস্থ ব্যাক্তি ভর্তি হন হাসপাতালে। তার একটি অপারেশন হয় আর অপারেশনের পর তাকে অন্য জায়গায় শিফট করা হয়। আর যেখানে তাকে রাখা হয় সেখানে স্যালাইন স্ট্যান্ডের অভাব ছিল।

তারপরই এই ভাইরাল ছবিটি উঠে আসে। কেউ কেউ এই ছবি দেখে সরকারের স্বাস্থ্য সংস্থার অবনতি নিয়ে কথা বলে। আবার কেউ বাবার প্রতি মেয়ের ভালবাসা নিয়ে কথা বলেছে। বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকমের মত। এই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর তদন্ত হয় হাসপাতালে।

তদন্তের পর জানা যায় সেই সময় স্যালাইনের স্ট্যান্ড সামনে ছিলোনা তাই ডাক্তারকে যেতে হয় সেটা আনতে। মেয়েটিকে অবশ্য স্যালাইনের বোতল ধরিয়ে রাখা হয়েছিল কিন্তু সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য। আর সেই মুহুর্তে কেউ ছবি তুলে নেয়। আর সেটি ভাইরাল হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here