গোটা বিশ্ব যেটা পারল না, সেটাই করে দেখিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতীয় রেল…

0
19184

খবরের কাগজের পাতা খুলে নামি দামি ব্যাক্তি বর্গের প্রেম, আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ে, বিচ্ছেদ এইসব তো রোজই পড়েন। কিন্তু নিজের দেশের খবরটুকু কি রাখেন ? এই দেশটার কিস্যু হবে না রসাতলে যাবে এই বক্তব্য পেশ করা তো সহজ। তবে দেশের নতুন অগ্রগতির কোন খবর কি রাখে মানুষ ? জানেন কি গোটা বিশ্বকে পিছনে ফেলে ভারত ইতিহাস তৈরি করলো।

ভারতীয় রেল বিশ্বে প্রথম ডিজেল ইঞ্জিনকে ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনে রুপান্তরিত করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো। এখন থেকে ২৬০০ আর ২৭০০ হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিন ৫-১০ হাজার হর্সপাওয়ারের ইঞ্জিনে পরিবর্তিত হয়ে যাবে। ১৮৫৩ সালের ১৬ই এপ্রিল প্রথম রেলের চাকা ঘোরে ভারতে।

রেল ব্যবস্থা আমাদের দেশে যানবাহন ব্যবস্থার প্রাণরেখা বলা যেতে পারে। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবার জন্য আপামর দরিদ্র জনসাধারণের জন্য গান্ধীজী পদব্রজে মানে সোজা বাংলায় হেঁটে যেতে বলতেন। বিভিন্ন অভিযান তিনি সম্পন্ন করেন পায়ে হেঁটেই।

তা বলে কি দৈনন্দিন প্রয়োজনে বা শহর থেকে ছুটি কাটাতে দুরে যেতে হলে আমরা হেঁটে পাড়ি দেব ? বাস, ট্রাম, ট্রেন এসবের সাহায্য তো নিতেই হবে। সমস্ত যানবাহনের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের প্রিয় ট্রেন যাত্রা। একটু দুরের যদি যাত্রাপথ হয় তবে ট্রেনের জুড়ি মেলা ভার।

এই ট্রেন যাত্রা নিয়ে মানুষের রোম্যান্টিসিজমেরও শেষ নেই। বলিউড থেকে টলিউডের গানের দৃশ্যে আমরা দেখতে পাই এই যানের ভূমিকা। ভারতবাসী হিসেবে আমরা গর্বের সাথে বলতেই পারি যে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেলের নেটওয়ার্ক এই ভারতেই। ছুটি কাটাতে যাওয়া থেকে শুরু করে রোজকার যাতায়াত প্রতি ক্ষেত্রেই ট্রেন অন্যতম সেরা মাধ্যম।

লোকাল ট্রেন হোক বা এক্সপ্রেস সব ট্রেন যাত্রাই আরামদায়ক। আমরা সবাই জানি যে ডিজেল পরিবেশ দূষণ ঘটায়। তাই কার্বন মুক্ত পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে এই ডিজেল ইঞ্জিনকে ইলেকট্রিক ইঞ্জিনে রুপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় রেল।

এই প্রকল্পে ২২শে ডিসেম্বর ২০১৭ থেকে কাজ শুরু হয়েছিল, আর নতুন ইঞ্জিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ এ তৈরি হয়ে যায়। মাত্র ৬৯ দিন লাগে এই কাজ শেষ হতে। পরিবর্তিত প্রথম ইঞ্জিন রাজধানী দিল্লির সফদরজং রেলওয়ে স্টেশনে আসে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here