বেশি রাত জাগলে মানুষ তাড়াতাড়ি মারা যায়, জানুন কি বলছে গবেষনা…

0
4962

আপনি কি জানেন ? বায়োলজিক্যাল ক্লক কি সে বিষয়ে কোন জ্ঞ্যান আছে আপনার ? নেই তো ! জানি, আপনার মতো অনেকেই এই বিষয়ে খোঁজ রাখেন না। তাই তো বছর বছর বাড়ছে অকাল মৃত্যুহার। সম্প্রতি বায়োলজিক্যাল ক্লকের ওপর গবেষণা চালিয়ে তিন মার্কিন গবেষক নোবেল প্রাইজে ভূষিত হয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে বায়োলজিক্যাল ক্লককে মনমতো চালালে মারাত্মক বিপদ হয়।

এখেত্রে যে যে ঘটনাগুলি ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়, সেগুলি হল…

১. ওজন বাড়তে থাকেঃ দিনের পর দিন রাত জেগে থাকলে খাবার ঠিক মতো হজম হতে পারে না। ফলে একদিকে যেমন গ্যাস-অম্বলের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়, তেমনই ওজনও বাড়তে শুরু করে। আর যেমনটা আপনাদের সকলেরই জানা আছে যে ওজন বাড়লে ধীরে ধীরে সুগার, পেসার এবং কোলেস্টেরলের মতো রোগ এসে শরীরে বাসা বাঁধে। ফলে আয়ু চোখে পড়ার মতো কমে যায়।

২. ক্যান্সার রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়ঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত রিপোর্টে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে দিনের পর দিন রাত জাগলে শরীরের অন্দরে ক্ষয় এতো বেড়ে যায় যে সেই ফাঁক গলে ক্যান্সার সেল দেহের অন্দরে বাসা বাঁধার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই মরণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। তাই এবার থেকে বেশি টাকা ইনকামের লোভে নাইট শিফট করার আগে একবার ভাববেন প্লিজ।

৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়ঃ গবেষণায় দেখা গেছে রাত জেগে কাজ করলে কর্টিজল হরমোনের মতো স্টেস হরমোনের ক্ষরণ মারাত্মক বেড়ে যায়। ফলে সারা রাত কাজ করার ক্ষমতা জন্মালেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে যায়। ফলে নানাবিধ রোগ ঘারে চেপে বসতে সময় লাগে না। প্রসঙ্গত, স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ বৃদ্ধি পেলে মানসিক চাপও বাড়তে শুরু করে, যা শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকারক।

৪. চোট-আঘাত লাগার প্রবণতা বেড়ে যায়ঃ সারাদিন যতই ঘুমোন না কেন, রাতে ঘুম আসতে বাধ্য। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ যেমন হ্রাস পায়, তেমনি শরীরের সচলতাও কমতে শুরু করে। ফলে কর্মক্ষেত্রে চোট-আঘাত লাগার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

৫. গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারেঃ শরীরের নিজস্ব ছন্দ বিগড়ে গেলে দেহের অন্দরে এমন কিছু নেতিবাচক পরিবর্তন হতে থাকে যে তার সরাসরি প্রভাব পরে মা হওয়ার ক্ষেত্রে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যেসব মেয়েরা নিয়মিত নাইট শিফট করেন তাদের মিসক্যারেজ এবং প্রিটার্ম ডেলিভারি হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম ওজনের বাচ্চা জন্ম নেওয়ার সম্ভবনাও থাকে। তাই মা হওয়ার পরিকল্পনা করলে ভুলেও রাত জেগে কাজ করবেন না।

৬. ব্রেন পাওয়ার কমে যায়ঃ রাতের বেলা মস্তিষ্কের আরাম নেওয়ার সময়। তাই তো এই সময় দিনের পর দিন কাজ করলে ধীরে ধীরে ব্রেন পওয়ার কমতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ডিপ্রেশন, হাইপোলার ডিজঅর্ডার, স্লো কগনিটিভ ফাংশন, স্মৃতি শক্তি লোপ পাওয়া সহ আরও সব সমস্যা মাথা চওড়া দিয়ে ওঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here