মৃত্যুর আগে বোন তার ভাইকে যা ম্যাসেজ করেছিল তা দেখলে পায়ের তলার মাটি সরে যাবে…

0
29839

আজ যে ঘটনাটি আপনাদের বলবো সেটি ঘটেছে ভাগলপুরে। সেখানের একটি ফ্ল্যাটে রুম নং ১০১ এ নেহা নামের একটি মেয়ের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগেও কিছু ঘটনা ঘটে। মেয়েটির ওপর প্রতিদিন অত্যাচার করা হতো। একদিন তাকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়। মেয়েটি আগে থেকেই বুঝেছিল হয়তো সে মারা যেতে পারে, তার সাথে কিছু খারাপ হতে পারে। তাই সে তার খুনের প্রমাণ মৃত্যুর আগেই রেখে দিয়ে গিয়েছিল।

মৃত্যুর কিছুদিন আগে মেয়েটি তার ভাইকে হোয়াটস অ্যাপে কিছু ম্যাসেজ পাঠায়। সেটিই ছিল তার খুনের প্রমাণ। এই ম্যাসেজের সূত্র ধরে পুলিশ গ্রেফতার করে খুনিকে। মৃত্যুর আগে বোন তার ভাইকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে বলে দেয় যে সে যেন ম্যাসেজগুলো ডিলিট না করে। পাঠায় রুটি আর ডিমের অমলেটের একটি ছবি।

এবার জেনে নেওয়া যাক আসল ঘটনা কি ঘটেছিল ঃ কিছুদিন আগে নেহা নামে একটি মেয়ে মারা যায় ভাগলপুরে। খুনের দায়ে ধরা হয় তার স্বামী দীনেশ কুমার আজাদ ওরফে দীনেশ রাজাককে। পুলিশ খুনের ঠিক কিছুদিন পরেই তাকে গ্রেফতার করেন তাও আবার প্রমাণ সহ। সবাই ভাবতেই পারেনি যে এত তাড়াতাড়ি পুলিশ কিভাবে প্রমাণ পেলো।

এর উত্তর হল খুন হওয়া মেয়েটি নিজের খুনের প্রমাণ নিজেই দিয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুর কিছুদিন আগে মেয়েটি তার ভাইকে ম্যাসেজ পাঠায়, সেই ম্যাসেজে ছিল একটি ছবি। সেটি একটি রুটি আর ডিমের অমলেটের ছবি ছিল।

মেয়েটি তার ভাইকে ছবিটি পাঠিয়ে বলেছিল যে তার স্বামী খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে তাকে কিছু এমন খাওয়াচ্ছে যার জন্য সে মা হতে পারছে না। বিয়ের পর থেকে এমনিতেই যৌতুকের জন্য তার ওপর অত্যাচার চলত।

তারপর শুরু হয় খাবারের সাথে ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো। একদিন নেহা ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ছবি তুলে নেয় এবং সঙ্গে সঙ্গে পাঠায় তার ভাইকে। ভাইকে বলে দেয় যাতে সে সেই ম্যাসেজ ডিলিট না করে।

এই ম্যাসেজটি নেহা ১৮ই নভেম্বর তার ভাইকে পাঠায়। নেহা চেয়েছিল তার যদি মৃত্যু হয়, তাহলে পুলিশের কাছে যাতে দীনেশের কালো কাজ ধরা পরে, দীনেশের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পুলিশ প্রমাণ হিসাবে নেহার সাথে তার ভাইয়ের ম্যাসেজ পায়, সাথে সাথে তার সঙ্গে পায় নেহা এবং দীনেশের ম্যাসেজ। এইসব দেখার পর পুলিশের কাছে সবটাই পরিষ্কার হয়ে যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here