বাড়িতে বসেই মাত্র ২ টাকায় মাস্ক বানান ৫ মিনিটে- আর চড়া দামে কিনতে হবেনা করোনার মাস্ক

0
324

করোনা দেশের বাইরে ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছে অনেক জীবন। দেশের ভিতরে ইতিমধ্যেই পড়ে গেছে হাহাকার। ঠিক কিভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব সেটা বুঝতে পারছেন না কেউই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি, সরকারী সমস্ত কাজের ছুটি। ভয় চেপে বসছে মানুষের মনেও। ইটালির অবস্থা দেখে শঙ্কিত সকলেই। আমাদের দেশে যদি মহামারীর আকার ধারণ করে তাহলে সংখ্যাটা কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়িয়ে যাবে সব অঙ্ককে। তাই খুব সাবধানে থাকতে বলা হচ্ছে মানুষকে। বড় জমায়েত বা ঘরের বাইরে না বেরোনোই ভালো বলছেন সব বিশেষজ্ঞও।

করোনার হাত থেকে বাঁচতে গেলে নিজেকে থাকতে হবে পরিষ্কার। সবসময় হাত ধুতে হবে স্যানিটাইজার জাতীয় কিছু দিয়ে। সাথে অবশ্যই দরকারী জিনিস হল মাস্ক বা মুখ ঢাকার মুখোশ। আপনার হাঁচি , কাশি বা সর্দি হলে অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে মুখোশ। যাতে আপনার থেকে সংক্রমণ কিছুতেই না ছড়ায় অন্যদের মধ্যে। অন্যদেরও ঠিক একই কারণে ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে মুখোশ। কেউ শুনছেন, কেউ শুনছেন না। কিন্তু দেশ জুড়ে মাস্ক নিয়েও পড়ে গেছে শোরগোল। সব মানুষ ইতিমধ্যেই বেশীরভাগ মাস্ক কিনে নেওয়ায় মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে না বাজারে। দাম হয়ে উঠেছে আকাশছোঁয়া।

হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর মতোই কালোবাজারি হচ্ছে মুখোশ নিয়েও। যেহেতু এখন সকলের দরকার তাই যেকোন দামেই মুখোশ কিনতে রাজী হয়ে যাচ্ছেন মানুষেরা। সেই সুযোগই নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। হুজুগ থেকে টাকা উপার্জন করার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও বহুবার ঘটেছে। তবে এবার মানুষের খারাপ সময়ে এই টাকা উপার্জনের চেষ্টাকে মরাল কোডের বাইরে বলেই ধরছেন লোকেরা। ব্যবসায়ীদের নিন্দার ভয় নেই কোন। তারা দিব্যি বেচে যাচ্ছে নিজেদের জিনিস। ফলে এখন মাস্কের আকাল এবং অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি।

এই অবস্থায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ফুস্ফুস বিশেষজ্ঞ পার্থসারথি ভট্টাচার্য। বাড়িতে বসেই শুধুমাত্র কাগজ দিয়ে কিভাবে মাস্ক তৈরি করা যায় তার সহজ উপায় বাতলেছেন তিনি। একটি A4 সাইজের কাগজ নিয়ে সেই কাগজকে ৮ বার ভাঁজ করতে বলেছেন তিনি। ৮ ভাঁজ হয়ে যাওয়ার পর কাগজের দুটি কোণা মুড়িয়ে  দিতে হবে। সেই মুড়িয়ে দেওয়া কোণা তে দুটো গার্ডার বেঁধে সেই গার্ডার এর উপর দিয়ে করে দিতে হবে স্টেপল। তৈরি হয়ে গেল আপনার কাগজের মাস্ক। টাকাও বাঁচল। প্রতিরোধও বাড়লো।

পার্থ বাবুর কাছে যারা দেখাতে আসছেন তাদের মুখেও এখন এই মুখোশ। কারণ পার্থ বাবু জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য মাস্ক জরুরী। কলকাতার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। নিজেও কাগজের মাস্ক তৈরি করেছেন তিনি। একটু সচেতন হলেই বড় বিপদ থেকে বেঁচে যাবো আমরা । জানিয়েছেন পার্থসারথি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here