মেয়ে হয়েও চাকরি, প্রতিদিন দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা, এই অপরাধেই শ্বশুরবাড়িতে হারালো এক নিষ্পাপ প্রাণ…

0
9734

পাটুলিতে এক মহিলার রহস্যমৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াল। সেই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করে তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোককে। ২০১৮ সালে বিয়ে হয় শুভজ্যোতির সঙ্গে রোমিতার। বিয়ের পর থেকেই নানা ভাবে সে অত্যাচারিত হত। তারপর সেকথা সে জানায় তার বাবা মাকে, কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি। তার বাবা মা তাকে বুঝিয়ে বলেছিল যে মানিয়ে নিয়ে থাকতে।

রোমিতা অনেক চেষ্টা করেছিল মানিয়ে নেওয়ার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পেরে ওঠেনি। যেদিন রোমিতার মৃত্যু হয় সেদিন তার শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে তার বাপের বাড়িতে জানানো হয় যে রোমিতা খুব অসুস্থ। আর তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সেই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ছুটে যায় সেই হাসপাতালে। কিন্তু তারা গিয়ে দেখে রোমিতা মৃত। পাড়ার কিছু সদস্যদের কাছ থেকে তারা জানতে পারে যে রোমিতা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু রোমিতার পরিবার বলে যে তাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছে।

আর তাকে খুন করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের এরকম বলার কারন হল তারা জানতেন যে তাদের মেয়ের উপর অত্যাচার করা হত। এখন রোমিতার পরিবার সেই বিষয় নিয়ে আফসোস করছেন।

তারা ভাবছেন যখন রোমিতা তাদের বলেছিল শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের কথা, তখন যদি তারা মেয়ের কথায় গুরুত্ব দিয়ে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আনতো তাহলে আজ তাদের মেয়ের এই পরিণতি হতনা। পাটুলি থানায় রোমিতার পরিবারের লোক অভিযোগ করে শুভজ্যোতি ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।

তারা অভিযোগ করেন যে তাদের মেয়েকে খুন করা হয়েছে। নিত্য অত্যাচারে মানসিক ভাবে খুব ভেঙ্গে পরেছিল রোমিতা। এই সব ঘটনা পুলিশকে জানানো হয়। তারপর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্ত করে তারা সব জানতে পারে।

রোমিতার উপর কি অত্যাচার চলত, কে কে অত্যাচার করতো। তদন্তের পর পুলিশ গ্রেফতার করে শুভজ্যোতিকে। পেশায় সে একজন ব্যাঙ্ককর্মী। তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ আছে সবটুকু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আজও ঘরে ঘরে কত গৃহবধূ বিনা অপরাধে নিজের প্রাণ হারাচ্ছে। তাদের পরিবারের উচিৎ নিজের মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নিয়ে থাকতে না বলে তার সুবিধা অসুবিধা দেখে তার পাশে দাঁড়ানো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here