ইন্দ্রজিৎ গাইলেন শহর কলকাতা নিয়ে ‘ঘরে ফেরার গান’

0
350

ব্যস্ততায় ভরে রয়েছে এ শহর। প্রতিনিয়ত আমরা ছুটে চলেছি। কেন? সেই প্রশ্নের বোধহয় কোন উত্তরই নেই কারোর কাছে। কিন্তু এই ব্যস্ত শহরেও যখন বিকেলের হাল্কা রোদ পড়ে আর কেউ অভিমানে ছেড়ে যায় হাত,কোথাও একটা বিষণ্ণ সুর বাজে। সেই সুর থেকেই তৈরী হয় ঘরে ফেরার গান।আর সেই সুরকে অনায়াসে নিজের গানে নিয়ে আসতে পারেন যিনি তিনি ইন্দ্রজিৎ দে। কিছুদিন আগেই মিরচি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড শো’তে গানটির জন্য শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাময় সঙ্গীত পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

নানান রঙের সুর সবসময় ঘিরে থাকে তাকে। আর তিনিও ভালোবাসেন সেই সুরদের। ভালোবাসেন প্রতিটি সুরের সাথে জড়িয়ে থাকা যন্ত্রকে।প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে, বিলুপ্ত হচ্ছে প্রকৃতি, কিন্তু এর মাঝেও যে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে অনেক সুরের সাথে জড়িয়ে থাকে যন্ত্রেরাও, সে খবর বোধহয় অনেকেরই অজানা। ভি.বালসারার শিষ্য ছিলেন। ভি. বালসারার পরে তিনি বাজাতে শুরু করেন মেলোডিকা।যাতে হারিয়ে না যায় শুধুমাত্র সেই ভালোবাসায়।শিখতে চায় না কেউ বলে আজকাল হারিয়ে যাচ্ছে সব। আক্ষেপ করছিলেন ইন্দ্রজিৎ। নিজে ছিলেন বাংলা রক ব্যান্ড ফসিলস এর কি- বোর্ড প্লেয়ার, পিয়ানিস্ট এবং মিউজিক অ্যারেঞ্জার।পরবর্তী সময়ে মহানগর@কলকাতা রুপম এর সাথে সহকারী সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও ছিলেন তিনি। বিক্রম ঘোষ এবং পূর্বায়ণ চ্যাটার্জীর সাথে আবর্ত ,শান্তিনিকেতন ছবিতেও তিনি ছিলেন সঙ্গীতের সাথে জড়িয়ে। গৌরব চট্টোপাধ্যায় বা গাবুর সাথে কাজ করেছেন কাগজের বউ আর এলার চার অধ্যায় ছবিতে। ২০১০ এ তার নিজস্ব Instrumental Album রিলিজ করে ‘Blow with my Keytar’ . রাগা রক এর সাথে তিনি পরিচয় করান মানুষের।শুধু বাংলা গানের জগতেই নয়, তিনি কাজ করেছেন বিভিন্ন শিল্পীদের সাথে। ২০১১ সালে হরিহরনের সাথে তিনি কাজ করেন Raga Morphism’ অ্যালবামে। বড় প্রাপ্তির জায়গা আসে ২০১৫ সালে।যখন ‘জল’ সিনেমাটিতে বিক্রম ঘোষের সাথে কাজ করেন তিনি। সোনু নিগম ও তিনি অস্কার নমিনেশন পান।সিনেমাটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের সাথে যুক্ত ছিলেন তিনি।সত্রাজিত সেনের ‘মাইকেল’ সিনেমায় তিনি কাজ করেছেন এক ঝাঁক নক্ষত্রের সাথে।শফাকত আমানত আলি, রেখা ভরদ্বাজ থেকে শুরু করে সোমলতা, তিমির বিশ্বাস- কে নেই সে তালিকায়? মিরচি মিউজিক অ্যাওয়ার্ড এ পাঁচটি নমিনেশন পায় ‘মাইকেল’ এর গান।ঘরে ফেরার গান যেটি গেয়েছিলেন অসামান্য সঙ্গীতশিল্পী শফাকত আমানত আলি এবং তিমির বিশ্বাস, তার সুরের জন্য তিনি জিতে নেন পুরস্কার।শ্রেষ্ঠ সম্ভাবনাময় সঙ্গীত পরিচালক।তিনি মনে প্রাণে চান বিদেশের মত এদেশেও চর্চা হোক Instrumental music. অন্যান্য জায়গার মেয়েদের মত এখানকার মেয়েরাও শুধুমাত্র গান প্রাধান্য না দিয়ে প্রাধান্য দিক সুরকে।সারেঙ্গি,সেতার,বাঁশি,তারসানাই হারিয়ে যাচ্ছে যেসব সুরের সঙ্গীরা তারা যেন হারিয়ে না যায় কালের গর্ভে।সুর ভালোবেসে চলা এই মানুষটি নিয়ে এসেছেন ঘরে ফেরার গান এবার নিজের গলায়। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে।কারণ যতই ‘জং ধরা জীবন কলকাতায়’ হোক না কেন দিনের শেষে ঘরে ফেরাও সেই শহর কলকাতায়…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here