হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি “বন্ধু”, দরজার বাইরে হত্যে দিয়ে বসে রইলো ৪ টি কুকুর…

0
8512

মানুষের থেকেও বিশ্বস্ত প্রাণী হল কুকুর। মানুষ বেইমানি করে কিন্তু কুকুর কখনো বেইমানি করেনা, এই কথা আমরা সকলেই জানি। আর একথা ১০০ শতাংশ সত্য। এই বিশ্বস্ততার গল্প আমাদের বিশ্বের বহু জায়গায় ইতিহাস হয়ে রয়েছে। সেটা আবার প্রমাণ হয়ে গেল ব্রাজিলের এক ঘটনার পর। তারা কখনো বিপদের মুখে ছেড়ে চলে যায়না মানুষের মতো। আমৃত্যু তারা পাশে থাকতে জানে।

সান্তা ক্যাটারিনার হাসপাতাল রিজিওন্যাল অল্টো ভ্যালেতে ভীষণ অসুস্থ অবস্থায় সিজার নামে এক তরুণ ভর্তি হন। সেই ছেলেটি ছিল অনাথ। তার নিজের বলতে তাকে দেখার মতো কেউ ছিলনা। কিন্তু হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন ছেলেটি ভর্তি হওয়া থেকে হাসপাতালের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল চার সারমেয়।

এই খবর পাওয়া যায় ঐ হাসপাতালের এক নার্সের ফেসবুক পোস্ট থেকে। তিনি সেই সারমেয়দের ছবি তুলে ফেসবুকে আপলোড করেছিলেন। সঙ্গে লিখেছিলেন যে, রাত ৯ টা নাগাদ সেই ছেলেটি ভর্তি হয়। কুকুরগুলি সঙ্গেই এসেছিল। তখন ভোর ৪টে, কিন্তু তখনও সেই কুকুরগুলি সেই জায়গা থেকে এক চুল সরেনি।

তারা শুধু হাসপাতালের কর্মীদের মুখের দিকে বিষণ্ণ মুখে, করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। বোধয় সারমেয়রা তাদের কাছে জানতে চাইছিলো যে তাদের বন্ধু কখন সুস্থ হবে? সেই সারমেয়দের এমন ব্যবহার দেখে অবাক হাসপাতালের সব কর্মীরা।

এবার হয়তো সকলের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে সিজার এর সঙ্গে সেই কুকুরগুলির কি সম্পর্ক? তাহলে বলি সিজার হল ভবঘুরে, তার দিন কাটে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে।

তার সঙ্গী বলতে ঐ চার কুকুর। কোনোদিন তার খাবার জোটে আবার কোনোদিন থাকতে হয় অনাহারে। কিন্তু যেদিন খাবার জোটে সেদিন সেই খাবারের প্রথম ভাগ পায় কুকুরগুলি।

সুখে দুঃখে কখনো সিজারের সঙ্গ ছারেনা তারা। হঠাত সিজার অসুস্থ হয়ে পড়ায় কুকুরগুলির তৎপরতায় পথচারীরা সিজারকে হাসপাতালে ভর্তি করে যায়। সঙ্গে আসে তার সারমেয় বন্ধু।

সেই হাসপাতালের নার্স জানিয়েছেণ যে কুকুরগুলি এতই সভ্য ভদ্র যে তাদের অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তারা হাসপাতালের কেবিনে প্রবেশ করেনি। বাইরেই অপেক্ষা করছিল।

ভোরের দিকে একটু সুস্থ হয় সিজার। তখন তার বন্ধুদের অনুমতি দেওয়া হয় ভিতরে প্রবেশ করার। তখন সেই সারমেয়রা যায় তাদের বন্ধু সিজারের কাছে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিজার এবং তার চার বন্ধুকে খাবার দেয় এবং সিজারকে চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here