দীর্ঘ বাধা অতিক্রমের পর রাতের কলকাতায় OLA বাইক চালিয়ে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন রূপা…

1
10037

সন্তোষপুরে মা-বাবা-দিদির সঙ্গেই থাকতেন রূপা। তারপর দিদি আর মায়ের চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন পরে। ফলে সেই বাড়িটা বেচে দিতে হয় তাদের। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই কঠিন অসুখে মা আর দিদি দুজনেই মারা যায়। তারপর থেকে বাবাকে নিয়ে বাঘাযতীনের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নেন তিনি।

তিনি রূপা চৌধুরি। শহরের প্রথম OLA বাইকের মহিলা চালক। অবশ্য তখন তিনি একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করতেন। গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ এর সেপ্টেম্বর মাস থেকে তার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পরেন, ফলে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়। তারপর রুপা যোগ দেন Swiggy তে।

Swiggy তেও রূপাই প্রথম সেই মহিলা যিনি একজন ডেলিভারি গার্ল হিসেবে নিয়োজিত হন। সাদর আমন্ত্রণে সুইগি দরজা খুলে দেয় তার জন্য। বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় রুপার জন্যে। এছাড়া কোন সমস্যা যাতে না হয় তারও দেখাশোনার দায়িত্ব নেয় সুইগি। তাকে দেখে সুইগিতে আরও অনেক মেয়ে কাজের শর্তে বেঁচে থাকতে যোগ দেয়।

এই বছর জানুয়ারি মাসে তার বাবা গত হয়েছেন। বাবা মা এবং দিদির স্মৃতি আঁকড়ে বাঘাযতীনের বাড়িতেই এখন থাকে রুপা, শুধু সঙ্গী এক বন্ধু। ফেব্রুয়ারিতে তিনি যোগ দেন ওলাতে এবং কাকতালীয় হলেও তিনি আবার এখানেও সেই প্রথম মহিলা চালক। রাত ১২টা পর্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে সওয়ারিকে রুপা পৌঁছে দেন গন্তব্যে। রাতের শহরে সবাই যখন মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিত, তখন এই সাহসিকা ব্যস্ত তার কর্তব্য পালনে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here