দীঘাতে সন্ধ্যা হতে না হতেই যৌ-ন কর্মীদের দাপট, পর্যটকরা নাজেহাল তাদের অত্যাচারে…

0
32957

সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালীর দু-একদিনের ছুটি কাটানো মানে হাতের কাছে দীঘা ছাড়া আর কিছু ভাবাই যায় না। পুজোর ছুটি হোক বা শীতের ছুটি, কিংবা সপ্তাহের শেষ, একটু ছুটি পাওয়া গেলেই বেড়িয়ে পড়া দীঘার উদ্দেশ্যে। কথায় আছে “বাঙালির উঠলো বাই তো দীঘা যাই”। দীঘার মনোরম পরিবেশ আর সমুদ্রের ঢেউ মন কাড়ে সব বাঙালীর।

বার বার ছুটে যেতে ইচ্ছা করে সেই সমুদ্রের কাছে। ওল্ড দীঘা থেকে নিউ দীঘা, উদয়পুর, তাজপুর এই সবকিছুই আমাদের প্রবল ভাবে আকর্ষন করে। শঙ্করপুরে লাল কাঁকড়ার দেশে হারিয়ে যেতে মন চায়। ১০ বছর আগের দীঘা আর বর্তমান দীঘার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য।

আগের থেকে অনেক উন্নতি হয়েছে দীঘার। হয়েছে অনেক নতুন নতুন সুপার ডিলাক্স হোটেল। বানানো হয়েছে বিশ্ব-বাংলা পার্ক। কিন্তু বহুদিন ধরে যে সমস্যা চলে আসছে তা হল মদ্যপ মানুষের দাপট। এখন আরো নতুন এক তান্ডব শুরু হয়েছে। সেটা হল যৌ-নকর্মীদের উৎপাত।

এরা দিনের বেলায় সমুদ্রের ধারে চাঁদা তোলে আর সন্ধ্যাবেলা দেখায় তাদের অন্য রূপ। দাঁড়িয়ে থাকে অন্ধকার গলিতে, আর কোন অল্প বয়সি ছেলে দেখতে পেলে প্রলোভন দেখানো শুরু করে। বয়স কম হওয়ার ফলে তারা রাজিও হয়ে যায় এই কাজে।

পর্যটকরা জানিয়েছেন যে তারা শরীরী আবেদনের জন্য ছোট ছোট পোশাক পড়ে সেজে গুজে দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে চলে অবাধ দর কষাকষি। তারপর ছেলেদের নিয়ে যায় নিজেদের পরিচিত হোটেলে। সেখানে চলে যৌ-ন খেলা।

আবার অনেক ছেলে ভয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে দেয়। এমনকি রাস্তায় কোন গাড়ি দেখতে পেলে তারা রাস্তার মাঝখানে গাড়ি দাড় করিয়ে গাড়িতে উঠে করতে থাকে অসভ্যতা। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দিয়ে পর্যটকদের বাধ্য করে টাকা দেওয়ার জন্য।

তাদের পকেট থেকে তুলে নেয় মানিব্যাগ। তারা রাস্তার যাত্রীদেরও ছারেনা। টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারে। এই সবের ফলে হয়রানি বাড়ছে পর্যটকদের। পর্যটকদের দাবী মূলত দীঘা স্টেশনের কাছে আর অমরাবতী পার্কের কাছে এদের দেখা যায়।

যারা রাতের ট্রেনে বেড়াতে আসে বা পার্কে ঘুরতে যায় তারাও হয় ওদের টার্গেট। কোন অন্ধকার জায়গা পেলে ঝাপিয়ে পরে তার উপর আর শুরু হয় যৌ-ন হয়রানি। যারা নিজেদের পরিবার নিয়ে ঘুরতে যায় তারা নিজেদের মান সম্মান হারায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here