মাটির নিচে সন্ধান মিলল আরেক পৃথিবীর। যেখানে রয়েছে আকাশ, খাল, বিল, পাহাড় ও আরো অনেক কিছু…

0
15603

গুহা কথাটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে যে দৃশ্যটি ভেসে ওঠে সেটি হল বড় পাহাড়ের মাঝে বড় বড় গর্তের মধ্যে অন্ধকার ফাঁকা এক জায়গা। পাথরের ফাঁক দিয়ে সামান্য অলোর বিকিরণ। হাওয়া বাতাস না খেলা স্যাঁতস্যাঁতে ঠান্ডা এক পরিবেশ। সাম্প্রতি চীনের চংকিং প্রদেশে আবিষ্কার হয়েছে আর এক বড় গুহা যেখানের আবহাওয়া পুরো পৃথিবীর থেকে আলাদা।

এই পৃথিবীর আলাদা আকাশ আছে, আছে মেঘ, আছে কুয়াশা। আকাশে শুধু আলাদা কুয়াশা, মেঘই নয় রয়েছে আলাদা নদী, খাল, বিল, পুকুর। এই গুহাটির নাম ‘ইয়ার অয়াং ডং’। চংকিং প্রদেশের খুব বিখ্যাত গুহা হল এটি। চীনের সকল মানুষ প্রায় এই গুহাটির ব্যাপারে জানে।

কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছু জন ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করেনি। সেই কারনেই ওই গুহাটি সম্পর্কে বিস্তারিত সকলে কিছুই জানত না। গুহা বিশেষজ্ঞ ও ফোটোগ্রাফারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল মিলে ঐ গুহাটি আবিষ্কার করেন।

তারা সেখানে গিয়ে ভিতরের কিছু ছবি তুলে আনেন। তারা জানিয়েছেন গুহার ভিতরে রয়েছে মেঘ, বালির কনা, জলীয় বাষ্প ও সেখানে আছে আলাদা আবহাওয়া। সেখানকার আবহাওয়া অনেকটা শীতল। সেখানে আবহাওয়া শীতল হওয়ার সাথে সাথে সেখানে আছে আদ্রতাও।

সেখানের পরিবেশ বেশ খানিকটা অস্বাভাবিক। সেখানের পরিবেশে বেঁচে থাকা অনেক কঠিন। শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে সেখানে। যে যে খাল বিল আছে সেইগুলি খুব ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী। যে কোন মানুষ সেখানে গেলে সে ভেসে চলে জেতে পারে। সেখানকার স্রোত এতোই তীব্র।

বিশেষজ্ঞদের একজন সদস্য রবি শোনের মতে এত বৃস্তিত গুহার আগে তাদের পক্ষে আবিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। সেই গুহার মধ্যে আছে কিছু অবাক হওয়ার মতো বিষয়। ৮২০ ফুট উচু গুহাটির প্রায় অর্ধেক ঢেকে রাখে কুয়াশা। গুহার উপরের অংশে কিছুই দৃষ্টিগোচর হয়না।

উপরের অংশে কুয়াশার সাথে মেঘে ঢাকা। গুহার ভিতর যে জল রয়েছে তা পান করার একদমই উপযুক্ত নয়। সেই জল নোনতা স্বাদের। গুহা শব্দটি শুনলে আমাদের মনে বেশ একটা রোমাঞ্চ খেলে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তেমন বড় গুহা নেই। যা আছে সব ছোট গুহা।

এখন পর্যন্ত পৃথিবীর সব থেকে বড় গুহা হল ভিয়েতনামের ‘হ্যাং সান ডং’। এই গুহাটি বড় নাকি চীনের গুহা বড় তা এখনও জানা জায়নি। সেই তথ্য জানতে হলে এখনও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here