টানা ২২ বছর ম্যানহোলের ভিতরে সংসার কাটালেন এই দম্পতি, পুরো ঘটনা জানলে অবাক হবেন…

0
2516

আজব এক জায়গা আমাদের এই পৃথিবী। কত কিছুই না ঘটে চলেছে এই পৃথিবীতে। এত কিছুর মধ্যে আমাদের সব কিছুর খবর জেনে ওঠা সম্ভব হয় না। আমি আপনি হয়তো খুব ভালো ভাবেই বেঁচে আছি, কিন্তু কিছু মানুষ এমনও আছে যারা দুবেলা খেতে পর্যন্ত পায়না, গায়ের বস্ত্র নেই, মাথার ওপর তাদের ছাদ নেই।

তাদের দেখে বা তাদের কথা শুনে মনে হয় আমরা অনেক ভালো আছি। আজ আপনাদের এমন একটি ঘটনা বলবো যা শুনলে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন। মানুষকে কত কষ্ট করে জীবন ধারন করতে হয় তা আজ জানবেন।

এই ঘটনাটি কলম্বিয়ার মারিয়া গার্সিয়া দেশের। অদ্ভুত এই দেশ আর তার থেকেও অদ্ভুত সেই দেশের মানুষেরা। এই দেশে মূলত সব বসবাসকারীরা নেশা ও ড্রাগ নিয়ে বুঁদ হয়ে থাকে। এই দেশে প্রায় সকলেই দুর্নিতির স্বীকার। কিন্তু এই দুর্নিতির যুগেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে ভালোবাসা। এই গল্প এক দম্পতির।

তারাও শুরুতে নেশায় ডুবে থাকতো। কিন্তু দুজনে দুজনের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর দুজনকে ভালোবাসার পর তাদের জগতটাই পালটে যায়। তারপর তারা একে অপরের সঙ্গে বাকি জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

তারপর থেকে তাদের জীবনে আসে পরিবর্তন। তাদের দেখা হয় অস্বাস্থ্যকর নেশায় ভরা পরিবেশে। তাদের নাম হল মারিয়া ও মেগুয়েল। ভালোবাসা তাদের জীবন থেকে সব খারাপ জিনিস মুছে দিয়ে ভালো মুহুর্তে ভরিয়ে দিয়েছে।

তারা সব খারাপ সঙ্গ ছেড়ে সুখে শান্তিতে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তারপর তারা একটি ম্যানহোলের ভিতরে নিজেদের সংসার শুরু করে। এইভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ২২ বছর। সেখানে তাদের খাট, আলমারি, টিভি আরো অনেক কিছুই আছে।

একটি সংসারে যা যা দরকার সেখানে তাই তাই আছে। সেখানে আছে রান্নার সমস্ত ব্যবস্থাও। তাদের সঙ্গে ছিল একটি কুকুর। যে সারা রাত তাদের পাহারা দিত। তারা দীর্ঘ ২২ বছর একে অপরের সঙ্গে কাটিয়ে ফেললেন শুধুমাত্র ভালোবাসা ও বিশ্বাসের জোড়ে। তাদের ভালোবাসার ভিত্তি হল বিশ্বাস।

তারা প্রমাণ করে দিল ভালোবাসা থাকলে সুখ শান্তি এমনিতেই আসে। দরকার নেই প্রচুর ঐশ্বর্যের। অল্প কিছু টাকাতেই দিব্যি চালিয়ে নেওয়া যায়। এখনও পৃথিবীতে ভালোবাসা মরে যায়নি এই ঘটনাটি তার প্রমাণ।

এত কম জায়গায় নিজেদের সংসার সুন্দরভাবে সাজিয়ে নিয়েছে তারা। কেউ কখনো ভাবতে পারবেনা ম্যানহোলে বসবাস করার কথা। তারা এটা করে দেখিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here