দুজনের চোখে সংসার গড়ার স্বপ্ন, হাতে হাত রেখে এই কাজ করে তাক লাগিয়ে দিলেন সমকামী দুই বান্ধবী…

0
5128

বহুদিন পরে স্বীকৃতি পেয়েছে সমকামিতা। তাই বেশ আনন্দতেই আছে সমস্ত সমকামী মানুষ। কিন্তু এই প্রথা মেনে নিতে পারেনি এখনও কিছু মানুষ। তাদের কাছে আজও সমকামিতা অপরাধ। তাই তাদের কথা না রাখতে পেরে কিছু অবান্তর কাজ করতে হয় কিছু সমকামিকে। যাদের কাছে ভালোবাসা মানেনা লি’ঙ্গ বৈষম্য। তাই এসব সমাজের মিথ্যে বেড়াজাল ভেঙ্গে দুই বান্ধবি ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়লো।

তারা দুটি মেয়ে। বহুদিন ধরে ভালোবাসে একে অপরকে। তাদের ভালোবাসা কেউ কখনও মানেনি। সমকামিতা স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও না। তাই তারা নিজেদের সুখের সংসারের খোঁজে ছেড়েছে ঘর। তাদের একজনের নাম মনীষা আর অপরজনের নাম বান্টি।

তাদের দুজনেরই বয়স ২৩ বছর। সমকামিতা স্বীকৃতি পাওয়ার পর মনীষার বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিল বান্টি। তারা ভেবেছিল সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর হয়তো তাদের বিয়েতে কোন বাধা থাকবেনা। কিন্তু তাদের সব আশা ভেঙ্গে গিয়েছিল সেদিন।

সেদিন মনীষার বাবা মা অপমান করে নানা রকম বাজে কথা বলে তারিয়ে দেয় বান্টিকে। কিন্তু তাদের ভালোবাসাও এত ঠুনকো নয়, যে এত সহজে ভেঙ্গে যাবে। কলেজে পড়ার সময় থেকেই তারা ভালোবাসার সম্পর্কে আবদ্ধ।

তারা সমাজের চোখে দুই ভালো বান্ধবী ছাড়া আর কিছুই ছিল না। তারা একে অপরের বাড়ি যাওয়া আসা করতো। কিন্তু সেটা কোনদিন কারোর চোখে খারাপ লাগেনি। তারপর একদিন বান্টি মনীষার বাড়ি এসে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, যে তাদের মেয়েকে বিয়ে করতে চায় সে।

এই কথা শোনার পর আর মাথা ঠিক রাখতে পারেনি মনীষার বাড়ির লোক। তক্ষণই বাড়ি থেকে বের করে দেয় বান্টিকে। তাও তারা দুজনে মিলে একবার শেষ চেষ্টা করেছিল তাদের পরিবারকে বোঝাতে। কিন্তু তাতেও তারা অসফল হয়। আর সেদিন রাতেই বেড়িয়ে যায় বাড়ি থেকে।

তাদেরকে বোঝাতে আসে স্থানীয় পুলিশ। তখন পুলিশকে সরকারের আদেশনামার কথা মনে করিয়ে দেয় বান্টি। আর তখন পুলিশের কিছু করার থাকেনা। এই কথা জানাজানি হওয়ার পর সারা গ্রামের লোকের ভিড় বারতে থাকে তাদের বাড়ির সামনে।

তারা সবার সব বারন উপেক্ষা কোলকাতার বাসে উঠে পরে। তারপর তারা পারি দেয় অজানার উদ্দেশ্যে। বান্টির বাবা মা কেউ নেই। কোলকাতায় এক মেডিক্যাল কলেজে বান্টি নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করে। দুজনে একসঙ্গে কলকাতাতেই ঘর বাঁধবেন বলে জানা গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here