সহবাগ, জাদেজা এবং আরও ৮ জন ক্রিকেটার যারা প্রচণ্ড গরিব ছিলেন, ৫ নাম্বারকে দেখলে বিশ্বাস হবে না…

0
2959

আমরা সকলেই M.S. Dhoni: The Untold Story চলচ্চিত্রটি দেখেছি, যেখানে ধোনি প্রথমে একজন টিকিট কালেক্টারের কাজ করতেন। পরে তিনি ভারতের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। এই চলচ্চিত্রটি বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। ধোনিই একমাত্র ক্রিকেটার নয় যিনি দারিদ্রতাকে হারিয়ে সাফোল্য পেয়েছেন। আজ আমরা এমনই দশ জন ক্রিকেটারের কথা বলতে চলেছি যারা দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে ভারতীয় ক্রিকেট দলে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

১. রবীন্দ্র জাদেজাঃ জাদেজার বাবা সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতেন। ক্রিকেটের দিক থেকে তার মা তার সবথেকে বড় সমর্থক ছিল। মা মারা যাবার পর তিনি খুব ভেঙে পড়েছিলেন এবং ক্রিকেট ছেড়ে দেবার কথাও ভেবেছিলেন। জাদেজা সহ-অধিনায়ক হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলেন এবং নিজেকে প্রমান করেন।

২. রমেশ পাওয়ারঃ রমেশ পাওয়ার ভারতের হয়ে ২ টি টেস্ট এবং ৩৪ টি ওয়ান ম্যাচ খেলেছেন। মা মারা যাওয়ার পর তার দিদি তাকে সব দিক থেকে সাহায্য করেছিল। রমেশের ভারতীয় জাতীয় দলে সুযোগ পাবার কথা শুনে তার দিদি নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। রমেশ সব প্রতিকূলতাকে হারিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পেয়েছিল।

৩. হরভজন সিংঃ হরভজনের প্রথম ম্যাচের পর নির্বাচকরা তাকে নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকায় ক্রিকেট থেকে তিন বছরের জন্য বাদ দিয়ে দিয়েছিল। তার বাবাও মারা যান সেই সময়। কি করবেন বুঝতে না পেরে তিনি ট্রাক ড্রাইভার হওয়ার কথা ভাবেন। পরে ভাজ্জি অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সুযোগ পায় এবং বাকিটা আজ ইতিহাস।

৪. উমেশ যাদবঃ উমেশ যাদবের বাবা কয়লা খনিতে কাজ করতেন। উমেশের স্বপ্ন ছিল পুলিশ অফিসার হওয়ার। কিন্তু তিনি তার বোলিং প্রতিভা এক বোলিং ক্যাম্পে গিয়ে আবিষ্কার করেন। সে তার পড়াশোনা ও বাকি সব স্বপ্ন ছেড়ে দিয়ে ফাস্ট বোলিং করার ওপর জোর দেয়।

৫. পাঠান ভাইয়েরাঃ পাঠান ভাইদের বাবা মসজিদে ২৫০ টাকার কাজ করত। তাদের বাড়ি পর্যন্ত ছিল না। বাবার সাথে তারাও সেই মসজিদেই থাকত। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দলে দুই ভাই একসাথে সুযোগ পেয়েছিল।

৬. বীরেন্দ্র সহবাগঃ সহবাগের বাবার গমের ব্যবসা ছিল এবং তারও ওই ব্যবসা চালাবার ইচ্ছা ছিল। তার ছোটবেলা কেটেছে ৫০ জনের যৌথ পরিবারে। শুধুমাত্র ক্রিকেট খেলার জন্য ভীরুকে প্রতিদিন ৮৪ কি.মি যেতে হত। তিনি শচীনকে নকল করার চেষ্টা করতেন। অবশেষে একদিন ভীরু ও তার গুরু শচীন একসাথে বিশ্বকাপ ফাইনালে ওপেন করতে নামে।

৭. বিনোদ কাম্বলিঃ কাম্বলির বাবা একজন সামান্য মেকানিক ছিলেন এবং তাদের পরিবারের মাসিক আয় ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। কাম্বলি একসময় নিজের ক্রিকেট ব্যাট কেনার জন্য চুরি করেছিলেন। শচিনের সাথে পার্টনারশিপে ৬০০+ রান সকলকে চমকে দিয়েছিল।

৮. মহম্মদ শামিঃ শামির বাড়ি সাহাসপুর নামের এক গ্রামে। খেলার মাঠ, ইলেকট্রিক ব্যবস্থ্য কিছুই ছিল না সেখানে। শামি কোলকাতায় তার কোচের বাড়িতে থেকে এক ক্লাবে প্র্যাকটিস করত। অনেক কষ্টের পর শামি ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ পায়। সাফল্য পাবার পর তিনি তার গ্রামে ইলেকট্রিক নিয়ে আসতে অনেক সাহায্য করেছেন।

৯. মুনাফ প্যাটেলঃ মুনাফ শিশু শ্রমিক হিসেবে এক কারখানায় কাজ করতেন। তার পরিবার এতোটাই গরিব ছিল যে প্রতিদিন ঠিকমত খেতে পেতো না। ক্রিকেট খেলার জন্য সে খালি পায়ে প্র্যাক্টিস করত। তার প্রতিভা দেখে এক ব্যক্তি তাকে জুতো কিনে দেয় এবং ভদোদরা ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করে দিয়েছিল। অবশেষে ২০০৬ সালে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পায় মুনাফ।

১০. জাহির খানঃ ছোট থেকেই জাহিরের ক্রিকেটার হবার ইচ্ছা ছিল। ন্যাশানাল ক্রিকেট ক্লাবে খেলার সময় তিনি তার পিসির সাথে থাকতেন যিনি হাসপাতালে আয়ার কাজ করতেন। সেই সময় জাহিরের জীবনটা হাসপাতালেই কেটেছে, যেখানে কোন বিছানা পর্যন্ত ছিল না। অবশেষে তিনি ২০০০ সালে জাতীয় দলে সু্যোগ পান।

এখানে আমরা এইরকম দশ জন ক্রিকেটারের কথা আপনাদের জানালাম যারা সকলেই দারিদ্রতা এবং প্রতিকূলতাকে হারিয়ে জীবনে সাফল্য পেয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here